সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে মায়ের সম্পর্ক

যেকোন মানুষের শারীরিক এবং মানসিক সুষ্ঠু বিকাশের ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা অতুলনীয়। আমাদের জন্মগ্রহণের পর সর্বপ্রথম এটাচমেন্ট গড়ে ওঠে মায়ের সাথে। এই এটাচমেন্ট যত সুদৃঢ় হয় সন্তানের মানসিক বিকাশ তত সুন্দর হয়। এই কারনে মায়ের অনুপস্থিতি অথবা উপেক্ষা বাচ্চার মধ্যে অনিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে যা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেও বিদ্যমান থাকে এবং পরবর্তীতে তা প্রায় সকল ধরণের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন মানুষের জীবনে আত্মবিশ্বাস এবং আত্মমর্যাদাবোধ তৈরিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে সন্তানের প্রতি মায়ের গুরুত্ব এবং ভালোবাসা।


মায়ের অভাব সন্তানের উপর অনেক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যেমন,


  • প্রয়োজনীয় ভালোবাসা এবং যত্ন না পেলে বাচ্চার মধ্যে একাকীত্বের অনুভূতি তৈরি হয় এবং অনেক সময় সে নিজেকে অপদার্থ বা অকরমন্য মনে করতে পারে। যার ফলে হতাশা, বিরক্তি এবং ক্রোধ দেখা দিতে পারে এবং বাচ্চার মন-মেজাজ সবসময় খিটখিটে থাকতে পারে।

  • বাচ্চা কোন ধরনের নির্দেশনা বা কথা শুনতে চায়না, অযৌক্তিক চাহিদা তৈরি করে এবং নিজেকে অথবা অন্যদের আঘাত করে। এক্ষেত্রে ধৈর্য ধারন করতে হবে এবং বাচ্চাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

  • একই সঙ্গে, সন্তানের অন্যান্য সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অসুবিধা হতে পারে। কারণ তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সামাজিক দক্ষতার অভাব দেখা যায় এবং তারা অন্যদের সহজে বিশ্বাস করতে পারেনা। ফলে তাদের মানুষের সাথে মিশতে কষ্ট হয়।

  • বাচ্চার মধ্যে নানা ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, হতাশা, হীনমন্যতা, আক্রমনাত্মক আচরণ ইত্যাদি।

  • মানসিক সমস্যার পাশাপাশি নানা ধরনের শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।


কি করা যেতে পারেঃ


বাচ্চার সঠিক বিকাশের জন্য মায়েরা যা করতে পারেন:

  • জন্মের প্রথম কয়েক বছর মায়ের সাথে বাচ্চার সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময় বাচ্চা মায়ের মাধ্যমে পৃথিবীকে বুঝতে শেখে। মা যদি তার চাহিদা ঠিকমত পূরণ করে তাহলে বাচার মধ্যে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। এই জন্য বাচ্চাদের ছোটবড় সব ধরনের চাহিদার প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

  • বাচ্চার প্রতি সৎ থাকতে হবে। অর্থাৎ মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে যেকোন কথা অথবা ঘটনা বুঝিয়ে বলতে হবে।

  • কোন কিছুর বিনিময়ে যেমন, ভাল ফলাফলের জন্য নয় বরং শর্তহীন ভাবে বাচ্চাকে ভালবাসতে হবে এবং তার পাশে থাকতে হবে। এতে তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হবে।

  • আপনি যেমনভাবে চাচ্ছেন বাচ্চা অনেক সময় তেমনটা নাও পছন্দ করতে পারে। এতে ধৈর্য হারানো যাবেনা। কারণ আপনি তার সাথে যেমন আচরণ করবেন সেও পরবর্তীতে তেমন আচরনই করা শিখবে। সুতরাং বাচ্চার দিক থেকে বিবেচনা করুন। তার উদ্দ্যেশ্য বোঝার চেস্টা করুন এবং তার সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন।

  • বাচ্চাকে ভাল কাজের জন্য উৎসাহ দিতে হবে। এতে তার মধ্যে আত্ববিশ্বাস গড়ে উঠবে এবং ভালো কাজের প্রশংসা পেলে সেই কাজটি বার বার করবে।

  • বাচ্চার সাথে ভালো সময় কাটাতে হবে। এতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে সে কোন সমস্যার মুখোমুখি হলে সহজেই আপনাকে জানাবে।



শারমিন আরা

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট

টেলিসাইকিয়াট্রি রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক লিমিটেড।